অনলাইন ডেস্ক
আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে নিবন্ধের সঙ্গে তার তৎকালীন ঐতিহাসিক ডায়েরির একটি ছবিও যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি) নিবন্ধটি পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) বিষয়টি নিশ্চিত করেন এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা।
তিনি বলেন, ‘আগামী বছরের শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে এনসিসিসি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। যার যতটুকু অবদান, তা নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।’
এনসিটিবি সূত্র জানায়, পাঠ্যবইয়ের ২২ নম্বর গদ্য হিসেবে নিবন্ধটি যুক্ত হচ্ছে। এতে ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রাম থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহের সূচনা, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সম্মুখসমরের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরা হয়েছে।
নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন, ‘সবাই আমরা যুদ্ধ করেছি। সৈনিক, জনগণ সবাই। জাতির চরম সংকটের মুহূর্তে কাউকে না কাউকে সামনে এগিয়ে আসতে হয়। নিতে হয় দায়িত্ব। আমি কেবল সেই দায়িত্ব পালন করেছি।’
এতে ২৬ মার্চ ১৯৭১ চট্টগ্রামে বিদ্রোহের সূচনা এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার স্মৃতিও বর্ণনা করা হয়েছে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, নিবন্ধটি পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হলে শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা ও প্রত্যক্ষ স্মৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এনসিটিবির কারিক্যুলাম সংশ্লিষ্টরা জানান, নিবন্ধের শুরুতে একটি ব্যাখ্যামূলক অংশ থাকবে। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব নয়—এমন বক্তব্যের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিত্বের অবদানের কথা উল্লেখ করা হবে।
সূত্র: বাসস